১১. অনুবাদক:

গ্লোবাল বিশ্বায়নের যুগে মানুষ সব ধরণের জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ হয়েছে। তাছাড়াও একটি ভাষার জিনিস অন্য ভাষায় অনুবাদের দরকার হয়ে থাকে। বিভিন্ন বই, ব্লগ, গবেষণাপত্র এক ভাষা থেকে অনুবাদের দরকার পড়েছে।

একজন অনুবাদক হতে হলে আপনার যেকোনো ‍দুটি ভাষার দক্ষতার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য অন্যদেশে বিক্রি করার জন্য সে দেশের ভাষায় নিজের পণ্য প্রচার করে থাকে। এজন্যও একজন অনুবাদকের দরকার হয়।

অনেকে আছে বলবেন, গুগল ট্রান্সলেটর থাকতে মানুষকে দিয়ে করাবে কেন? আসলে গুগল ট্রান্সলেটর এখনো এত বুদ্ধিমান হয়নি, যে একটা ভাষা সম্পূর্ণ অনুবাদ করবে। আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন, ট্রান্সলেটর সব বাক্যের সঠিক অনুবাদ দিতে পারে না।

এই ধরণের অনুবাদের কাজ অনলাইনে সহজে পেয়ে যাবেন। যদি কোনো স্পেসিফিক ভাষা যেমন: চাইনিজ, ফ্রেন্স ইত্যাদি, তবে কাজ পেতে সুবিধা হয়।

১২. ডিজিটাল মার্কেটিং:

ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রডাক্টের জগতে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাডাক্ট বিক্রির বড় একটা অংশ নির্ভর করে, মার্কেটিং এর উপর।

মার্কেটিং কি? কোনো পণ্যকে গ্রাহক বা ভোক্তার কাছে উপস্থাপন বা প্রচার করার একটি পদ্ধতি। যেটা দেখে গ্রাহকের মনে পণ্যটা কেনার আগ্রহ জেগে ওঠে। আদিম মার্কেটিং হলো ব্যানার বা মাইকিং করে পণ্য প্রচার করা।

তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং হলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার করা। ডিজিটাল মার্কেটিং বিশাল বিস্তৃত বিষয়। ই-মেইল মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি ছোট্ট অংশমাত্র। এছাড়াও আরও রয়েছে যেমন- সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং ইত্যাদি মিলিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং।

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটারের চাহিদা প্রচুর। এটি শিখার জন্য ইন্টারনেটে প্রচুর পরিমাণে রিসার্চ আছে। চাইলে বিনা খরচে খুব সহজেই ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারেন।

একজন ডিজিটাল মার্কেটার পণ্য প্রচার করে ২ ভাবে আয় করে থাকে। পণ্য প্রতি কমিশন নিয়ে অথবা প্রজেক্ট প্রতি দর হিসেব করে। একজন মার্কেটার মাসে অনেক টাকা আয় করে থাকে।

১৩. ই-মেইল মার্কেটিং:

বর্তমানে মোবাইল বা কম্পিউটার আছে, অথচ ই-মেইল নেই এমন ব্যাক্তি খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ব্যাপার। গুগলের আশির্বাদে সবারই জিমেইল খোলা বাধ্যতামূলক হয়েছে।

ই-মেইল মার্কেটিং অনেক বিস্তৃত একটি বিষয়। এখানে সামান্য কিছু বলব।

কোনো পণ্য প্রচার বা বিক্রি করার জন্য অনলাইনে টার্গেটেড অডিয়েন্সকে খুজে, তাদের ইমেইল সংগ্রহ করা হয়। ই-মেইলটাকে আকর্ষণীয় টেমপ্লেট আকারে বানানো হয়। এবার ই-মেইল গ্রহকের নিকট পাঠানো হয়।

এটার দ্বারা পণ্যের প্রচার ও প্রসার করা খুবই সহজ হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রচারের জন্য আপনাকে হায়ার করবে।

আবার এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ই-মেইল মার্কেটিং করা হয়। এটা কিভাবে? ধরুণ আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য লিংক সংগ্রহ করলেন। এবার এই লিংক সুন্দর টেমপ্লেটে ডিজাইন করে, ইমেইলের মাধ্যমে প্রচার করলেন। যদি কেউ এই অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে পণ্য কেনে আপনার কমিশন আসবে।

ফাইভারে গিগ করে কাজ পেতে পারেন। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ই-মেইল সংখ্যার উপর ভিত্তি করে টাকা ইনকাম করবেন। ই-মেইল সংগ্রহ করে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করা যায়।

১৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করে আয়:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক বেশিই জনপ্রিয় একটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এটি অনেক সহজ একটি মাধ্যম। কিন্তু সাধারণ মানুষের অনেকেরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে এই কাজে তেমন কোনো আগ্রহ প্রকাশ করছে না। আসুন বিষয়টা খুব সহজেই বুঝে নেই।


বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট আছে। এদের ভেতরে অনেকগুলো আবার সারা বিশ্বেই পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এইসব ই-কমার্স সাইটে প্রত্যেকটাতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) নামে একটি সেকশন রয়েছে।


আপনি সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে খুব সহজেই তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। এরপর আপনার একটা গ্রুপ তৈরী করতে হবে বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে। এরকম গ্রুপ আমাদের প্রতিটি মানুষেরই আছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে।


এখন ওই নির্দিষ্ট ই-কমার্স সাইট থেকে আপনি বিভিন্ন পণ্যের বিবরণসহ ওই লিঙ্ক কপি করে বিভিন্ন গ্রুপে পাঠাতে হবে। এবার ওখানে থেকে ওই লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেউ পন্যটি কিনে, তাহলে আপনি সেটার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণের একটি কমিশন পাবেন।


এক্ষেত্রে আপনার কমিশনের জন্য কিন্তু পন্যটির দাম বাড়বে না। পন্যটির আসল যে দাম সেটি দিয়ে মানুষ কিনতে পারবে আপনার পাঠানো লিঙ্ক থেকে।


তবে এ ধরণের কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং সর্ম্পকেও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট ধারণা থাকা চাই।


এভাবে অনেক টাকায় ইনকাম করা সম্ভব হয়, যদি আপনি ভালো একটি কমিউনিটি তৈরী করে ফেলতে পারেন। বর্তমানে অ্যামাজন এফিলিয়েশন প্রোগ্রাম (Amazon Affiliation Program) বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।